Friday, May 22, 2020

উন্নয়নের জন্য যোগাযোগের কৌশল (Approaches of C4D)

Source:  Adapted from the Centers for Disease Control and Prevention (CDC), The Social Ecological Model:  A Framework for Prevention, http://www.cdc.gov/violenceprevention/overview/social-ecologicalmodel.html (retrieved April 21, 2014).



Figure টিতে c4d এর কৌশলগুলোকে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি কৌশলের সাথে তাদের মূল বৈশিষ্ট্য এবং এই প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট অংশগ্রহণকারী দলের পরিচিতি দেয়া হয়েছে। c4d এর কৌশলগুলো একে অন্যের সাথে সম্পর্কিত। এই কৌশলগুলো পরিকল্পিতভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে একটি সফল ফলাফল পাওয়া সম্ভব। সাধারণ কিছু পদক্ষেপ ব্যক্তি বা আন্তঃব্যক্তিক পর্যায়ে নেয়ার মাধ্যমে আচরণে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা যায়। যেমনঃ শিশু সন্তান জন্মের পর মা ও শিশুর স্বাস্থ্য বিষয়ক চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন। অ্যাডভোকেসি পলিসি সেই পরিবর্তন আনার জন্য প্রচারণা চালিয়ে মানুষের সমর্থন আনতে পারে। সবগুলো কৌশল একসাথে প্রয়োগের মাধ্যমে কমিউনিটি ও প্রাতিষ্ঠনিক পরিবর্তন, বিশ্বাস, মূল্যবোধ, চিন্তাভাবনার পরিবর্তন করা সম্ভব সময়ের সাথে সাথে। 

অ্যাডভোকেসি
Social Ecological Model এ অ্যাডভোকেসির সাথে পলিসি বা যেকোনো নতুন আইন বা নিয়ম প্রণয়নের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির একটি আন্তঃসাম্পর্কিক ক্ষেত্র তৈরি করে। অ্যাডভোকেসি মূলত কোনো কিছুর বিষয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাওয়া। কোনো কিছুর পক্ষে জনসমর্থন তৈরি করতে সে বিষয়ে ওকালতি করা। কোনো প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য সাধনে বা নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে মানুষকে তথ্য দিয়ে অথবা নেতৃত্বকে প্রণোদিত করে জাতীয়, রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে পরিবর্তন আনতে একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করাটাই হলো অ্যাডভোকেসি।

অ্যাডভোকেসির উদ্দেশ্য – 

(১) নতুন নীতিমালা তৈরির জন্য বা বর্তমান সরকারি বা সাংগঠনিক আইন বা নীতি নিয়ম পরিবর্তন অথবা বিদ্যমান নীতিগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
(২) সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক নিয়ম ও কাজের ধারা পুনঃনির্মিত করা।
(৩) বিদ্যমান আইন, নিয়ম ও পদ্ধতি দ্বারা জনমানুষের উপকার হলে তার সমর্থন করা।
(৪) কোনো নির্দিষ্ট উদ্যোগ গ্রহণে প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহে প্রভাবিত করা।


অ্যাডভোকেসির ধরনঃ

(১) পলিসি অ্যাডভোকেসিঃ কোনো আইনগত, সামাজিক বা কাঠামোগত পরিবর্তন আনার জন্য নীতিনির্ধারকদের প্রভাবিত করা। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের আইন পরিবর্তনে প্রভাবিত করা। যেমনঃ স্বাস্থ্যনীতি, শিক্ষ্যানীতি। সাধারণত মতবিনিময় কোনো সভা বা সেমিনারে এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। 
(২) কমিউনিটি অ্যাডভোকেসিঃ সমাজের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে কিছু নীতিনির্ধারনা থাকে, সেগুলোতে পরিবর্তন আনা। কমিউনিটির লোকজনের সাথে সংলাপের মাধ্যমে কোনো ইস্যুতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা। 
(৩) মিডিয়া অ্যাডভোকেসিঃ কোন পরিস্থিতিতে নীতিনির্ধারকদের পরিবর্তন আনতে প্রভাবিত করতে মিডিয়ার সাহায্য নেয়া। 

অ্যাডভোকেসি সাধারণত সমাজের বিভিন্ন নীতিনির্ধারকদের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিবর্তন আনতে নতুন পরিকল্পনা সংযোজন করতে জনমানুষের সামনে আলোচনাকে সমর্থন করে। এই প্রক্রিয়াটিতে প্রয়োজনীয় তথ্য, সমালোচনা, ন্যায্যতা প্রতিপাদনের জন্য যুক্তি তর্ক উপস্থাপনকে সমর্থন করে। অ্যাডভোকেসির কিছু উদাহরণ দেয়া যাক –

- C4d প্রোগ্রামের জন্য আর্থিক ক্ষেত্র তৈরি
- গবেষণার জন্য সহায়তা
- মিডিয়ার সহায়তা অর্জনে কাজ করা
- মানসম্মত পর্যবেক্ষন প্রক্রিয়া তৈরি
- স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য আরো উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি

প্রতিবন্ধকতা

(১) রাজনৈতিক অথবা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতায়নে অস্থিরতা
(২) প্রোগ্রামের সার্বিক খরচে ঘাটতি
(৩) প্রোগ্রাম সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব
(৪) সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃস্থানীয়দের মধ্যে মতবিরোধ
(৫) উন্নয়নকর্মীদের বিভিন্ন স্তরে কম কাজের প্রবণতা
(৬) সিস্টেমের প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘাটতি; যেমনঃ human resource, commodities
(৭) বিপরীত কোনো নীতি
(৮) নীতিনির্ধারকদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাব
(৯) সাংস্কৃতিক চর্চা, মূল্যবোধ প্রভৃতিতে পরিবর্তন আনতে ব্যর্থতা


অ্যাডভোকেসি প্রণয়নে করনীয়

(১) অ্যাডভোকেসি কৌশল বাস্তবায়ন করার জন্য একটি কার্যকর দল গঠন।
(২) অ্যাডভোকেসি ইস্যুগুলো সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা। যেমনঃ কোন ইস্যুতে বিদ্যমান আইন ও নিয়মকানুন চর্চার ক্ষেত্র খুঁজে বের করা। কোনো ইস্যু নিয়ে কাজ করার আগে কেন ইস্যুটির উপরে কাজ করা জরুরি সে সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা থাকা উচিৎ।
(৩) প্রাথমিক এবং আনুষঙ্গিক অংশগ্রাহী দল চিহ্নিত করা। অর্থাৎ কারা নীতিনির্ধারক, কাদের জন্য নীতিনির্ধারিত হচ্ছে এই দলগুলোকে আলাদা করে ফেলা।
(৪) কাজের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যসূত্র খুঁজে বের করা।
(৫) অ্যাডভোকেসির উদ্দেশ্য খুঁজে বের করে তার জন্য প্রয়োজনীয় কী কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে তা খতিয়ে দেখা। 
(৬) অ্যাডভোকেসির কাজটি করার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল ও সংস্থান নিশ্চিত করা। 
(৭) অ্যাডভোকেসি প্রক্রিয়া সম্পাদনে প্রয়োজনীয় tools তৈরি করা ও খতিয়ে দেখা।



Social Mobilization / জনসমর্থন তৈরি

একটি ভৌগলিক সীমারেখার মধ্যে নানা শ্রেণীর মানুষ থাকে। জনসমর্থন তৈরি এমন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া যা জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের এই নানা শ্রেণীর মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করে। কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনে সচেতনতা তৈরি করে এবং আন্তঃক্ষেত্রীয় অংশীদারদের (inter-sectoral partners) এই সচেতনতা তৈরিতে অংশগ্রহণ করায়। এই নানা শ্রেণী পেশার মানুষের মধ্যে রয়েছে সরকারী নীতি নির্ধারক, মতমোড়ল, সাম্প্রদায়িক নেতা, আমলা, টেকনোক্র্যাট, পেশাদার দল, ধর্মীয় সমিতি, বেসরকারি সংস্থা, বেসরকারি খাত, নানা সম্প্রদায় ও ব্যক্তি। এই যোগাযোগ কৌশল কোনো পরিবর্তন তৈরিতে, সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নকে জোর দিতে, পরিবর্তনের জন্য সক্রিয় পরিবেশ তৈরি করতে ব্যক্তি বা কমিউনিটিকে এজেন্ট হিসেবে কাজে লাগায়। কোনো প্রোজেক্ট সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে কিনা সেটি নির্ধারণ করে এইসব এজেন্টরা। সাধারণত আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পাদন করা হয়। বিশেষ করে মুখোমুখি যোগাযোগ এই ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর। 

জনসমর্থন তৈরির অন্যান্য কাজের মধ্যে রয়েছে গণমাধ্যম সচেতনতা তৈরির ক্যাম্পেইন, কোনো সমস্যা সমাধানে মতমোড়ল বা নীতিনির্ধারকদের অ্যাডভোকেসি, কোনো ইস্যু সম্পর্কে জনমত তৈরির জন্য সানাজিক সংলাপ যেমনঃ জাতীয় টেলিভিশিন ও রেডিওর টক শো, কমিউনিটি মিটিং, থিয়েটার পারফরমেন্স, লিফলেট প্রদান ইত্যাদি। মূলত এর ফলাফল তৃণ্মুলন পর্যায়ের মানুষকে কোনো সিদ্ধান্ত তৈরিতে একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরির মধ্যে নিহিত। 

জনসমর্থন তৈরির পাঁচটি ধাপ – 

জনসমর্থন তৈরির এই প্রক্রিয়া প্রমাণ করে সামাজিক ও মানবীয় আচরণ পরিবর্তনের জন্য সমাজের একাধিক স্তরের সহযোগিতা প্রয়োজন। ব্যক্তি থেকে কমিউনিটি, আইনী পদক্ষেপের পাশাপাশি সবার কাজের সমন্বয় প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়ার মূল কৌশলই হলো যেকোনো পুঁজি তৈরি করতে অ্যাডভোকেসিকে ব্যবহার করে সামাজিক নিয়মে পরিবর্তন আনা, বিশেষ কোনো ইভেন্টে জনসচেতনতা তৈরি করা, যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য জনসমর্থন তৈরি করা, সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং অংশীদারীত্ব ও নেটওয়ার্ক তৈরি করা, সেই অবস্থাগুলোকে শক্ত করা।



Social Change Communication

সামাজিক পরিবর্তন যোগাযোগ সরকারি ও বেসরকারি সংলাপ, যুক্তিতর্ক ও আলাপ-আলোচনা করার একটি উদ্দেশ্যমূলক ও পুনরাবৃত্তিমূলক প্রক্রিয়া। এখানে ব্যক্তি বা কোনো দলীয় পর্যায় থেকে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে তাদের প্রয়োজন এবং অধিকার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে কাজ করা হয়। এই প্রক্রিয়াটি সাধারণত অংশগ্রহণমূলক। বৃহৎ পরিবেশে মানুষের আচরণ পরিবর্তন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে ক্ষতিকারক বিষয়গুলোকে বাদ দিয়ে সামাজিক শক্ত একটি পরিবর্তন আনার উদ্দেশ্যে কাজ করা হয়। 

জনসমর্থন তৈরির প্রক্রিয়াতে যখন কয়েকজন মিলে বা কয়েকটি দল মিলে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করে, সামাজিক পরিবর্তন যোগাযোগের ক্ষেত্রে তখন ব্যক্তি নিজেই রকটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজের প্রয়োজন, অধিকার, পরিবেশগত ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আনতে কাজ করে। এই প্রক্রিয়াটিও একটি সংলাপ নির্ভর প্রক্রিয়া। গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ঐতিহ্যগত মিডিয়ার এখানে যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।
সামাজিক পরিবর্তনের জন্য সম্প্রদায় সংলাপ সাধারণত একটি প্যাটার্ন অনুসরণ করবে। সংলাপ সাধারণত পরিবর্তনের জন্য একজন ব্যক্তি অণুঘটক হিসেবে কাজ করে। অণুঘটক যদিও একজন ব্যক্তি হতে পারেন, কোনো সংস্থার এজেন্ট হতে পারেন অথবা গণমাধ্যমে প্রচারিত কোনো বার্তা হতে পারে। যেমনঃ কোনো মা যিনি হয়তো বা নিউমোনিয়া কি জানেন না, কিন্তু রোগটির স্বরূপ চেনেন, তিনি অন্যান্য মায়েদের কাছে শিশুদের এই রোগের ধরন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে পারেন। এই আলোচনার মধ্য দিয়েই একজন ব্যক্তি সমাজের কোনো পরিবর্তনের অণুঘটক হয়ে উঠতে পারেন। কোনো সমস্যাকে সামনে আনার জন্য কিছু সামনে রাখতে হতে পারে –

(১) স্পষ্টভাবে কোনো সমস্যার বর্তমান অবস্থা নির্ধারন করা এবং সমস্যা সমাধানে সমাজের মানুষের কি কি দূরদর্শিতা রয়েছে তার আলোচনায় অংশ নেয়া। যেমনঃ সব শিশুই যাতে সময়মত প্রতিষেধক পায় তা নিশ্চিত করা।
(২) নির্দিষ্ট ও পরিমাপযোগ্য উদ্দেশ্যগুলোর বিকাশ যা সমস্যাটির সমাধানের জন্য সম্প্রদায়ের প্রত্যাশাগুলো প্রতিফলিত করে। যেমনঃ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাঁচ বছরের নিচে বয়সী শিশুদের প্রতিষেধক দেয়া নিশ্চিত করা।
(৩) পরিবর্তনকে উৎসাহিত করার জন্য যথাযথ ও যুক্তিসঙ্গত ক্রিয়াকলাপ নির্ধারন করা। যেমনঃ প্রতিষেধক নেয়া নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নাটক, পোস্টার ইত্যাদির ব্যবহার।
(৪) সমাজের বিভিন্ন মানুষকে লক্ষ্য অর্জনে কাজ বুঝিয়ে দেয়া
(৫) পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা
(৬) কাজের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধন হচ্ছে কিনা তার ফলাফল মূল্যায়ন করা
(৭) কাজের মূল্যায়ন করতে সংলাপের চর্চা


Behavior Change Communication

BCC একটি তাত্ত্বিক নির্ভর, গবেষণা নির্ভর, মিথস্ক্রিয়ামূলক প্রক্রিয়া। যোগাযোগ মূলত ম্যাজিক বুলেটের মত কাজ করে না। কোনো লক্ষ্য অর্জনে শুধু প্রচারণা চালালেই যে লক্ষ্য অর্জিত হয়ে যাবে তেমনটি নয়। যোগাযোগ বাস্তবায়নে বেশির ভাগ সময়ই মতমোড়লের প্রয়োজন হয়, যিনি ব্যক্তি পর্যায়ের মানুষের ভেতরে পরিবর্তন আনার জন্য তাদের জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্বাসে পরিবর্তন আনার জন্য কাজ করে। মূলত, মানুষের আভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের জন্য বেশকিছু ধাপ পার হতে হয়। যেমনঃ শিশুদের প্রতিষেধক দেয়া নিশ্চিত করতে আমরা কোনো শিশুকে নিশ্চয়ই দলে ভিড়াতে পারব না। প্রতিষেধক নিশ্চিত করবে শিশুটির মা অথবা তার পরিবার। এক্ষেত্রে একটি ফলাফলে যেতে কয়েকটি ধাপ পেরোতে হয়। এই ধাপগুলো KAP নামে পরিচিত (knowledge, attitude, practice)। এগুলোকে আচরণ পরিবর্তনের ধাপ বলা হয়। 

Knowledge / জ্ঞানস্তর বাড়ানোর জন্য প্রথমেই মতমোড়লকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতে হবে। মতমোড়ল মিডিয়াও হতে পারে আবার কোনো ব্যক্তিও হতে পারে। যেমনঃ শিশু জন্মের পরে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতিষেধকগুলো কেন দিতে হয়, কয়টি প্রতিষেধক দেয়া দরকার, না দিলে কী কী ক্ষতি হতে পারে, দিলে কোন সমস্যা এড়ানো যেতে পারে, কোথায় এই স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যাবে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো জরুরী।
Attitude / দৃষ্টিভঙ্গিঃ তথ্য দেয়ার পর প্রয়োজন হয় দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। যে এলাকায় প্রতিষেধক সুবিধা পৌঁছায়নি স্বাভাবিকভাবেই মায়েরা তাদের সন্তানদের টীকা দেয়াতে ভয় পাবেন। দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করার জন্য সরাসরি শুধু শিশুর মাকে নয়, তার আশেপাশের মানুষদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনও জরুরী।
Practice / চর্চাঃ কোনো কিছু সম্পর্কে জেনে, দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের পরে প্রয়োজন হয় সেই পরিবর্তন চর্চার। শিশুর মা হয়তো একটি টীকা দেয়ার পরে আর শিশুকে টীকা দেয়ার জন্য নিয়ে যাচ্ছেন না, অথচ তিনি জানেন যে প্রতিষেধক না দিলে শিশুর কী কী সমস্যা হতে পারে। চর্চা না থাকলে মূলত জ্ঞানস্তর বৃদ্ধি বা দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন কোনো বিশেষ কাজে আসবে না।


BCC কৌশল ব্যবহারের কিছু উপকারিতা রয়েছে / Using BCC approach can help to:

- সমাজে কোনো বিষয়ে আলোচনা করা এবং সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায়
- কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি করে যেমনঃ খাওয়ার আগে হাত ধোয়া
- মানুষের মনোভাবকে পরিবর্তন করে, যেমনঃ নিউমোনিয়া রুখতে শিশুকে টীকা দেয়ার প্রয়োজনীয়তা
- কোনো বিষয়ে লজ্জা কমানো
- তথ্য ও সেবার জন্য চাহিদা তৈরি
- কোনো সমস্যা সমাধানে নীতিনির্ধারক ও মতমোড়লদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ যেমনঃ নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়াতে শিশু মৃত্যু হ্রাসে করণীয়
- প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিসেবাগুলো প্রচার করা
- দক্ষতা ও স্ব-কার্যকারিতা (self-efficiency) বাড়ানো। যেমনঃ শিশুর ব্যবহার্য জিনিসগুলো কীভাবে জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে সে বিষয়ে কাজ করা









No comments:

Post a Comment

Featured Post

ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদনের প্রয়োজনীয়তা

- সমাজে প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণমাধ্যমের কাজ হলো সমাজের অপরাপর শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, বিশেষত রাষ্ট্র ও সরকারের কাজের ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা এবং জন...