Wednesday, May 20, 2020

উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ

উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ কি?

উন্নয়ন মূলত যোগাযোগীয় একটি প্রক্রিয়া। সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক বা অবকাঠামোগত যেকোনো পরিবর্তনই হোক না কেন তা আনতে যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। মূলত communication for development (c4d) বা উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ প্রক্রিয়াটি একটি বিশেষ ধরনের যোগাযোগ। একটি এলাকায় বিশেষ করে প্রান্তিক কোনো অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য যা যা যোগাযোগ প্রয়োজন ও তাদের বাস্তবায়ন প্রয়োজন, এই প্রোগ্রামটি সেসব বিষয় মাথায় রেখেই করা হয়েছে। বছরের পর বছর নানা প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে উন্নয়নের জন্য যোগাযোগের প্রক্রিয়ার মধ্যে বিশেষ পরিবর্তন এসেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগ পর্যন্ত উন্নয়ন যোগাযোগ ছিল একটি একমুখী প্রক্রিয়া। বার্তা বাহকের কাছ থেকে গ্রাহকের কাছে পৌঁছবে। যেমনঃ টেলিভিশনে বা রেডিওতে হিটলারের কোনো ভাষণ বা আদেশ জারি হলে এতে হস্তক্ষেপের ক্ষমতা বার্তা গ্রাহকের নেই। কিন্তু পরবর্তীতে আস্তে আস্তে অবস্থার পরিবর্তন আসতে শুরু করে। c4d আন্তব্যক্তিক যোগাযোগের মধ্যে একটি পরিবর্তন আনে। মুখোমুখি যোগাযোগের প্রক্রিয়া চালু করে। এ যোগাযোগ হতে পারে দু’জনের মধ্যে যোগাযোগ অথবা ছোট দলীয় কোনো যোগাযোগ। যেমনটাই হোক না কেন, শর্ত একটাই – এই যোগাযোগ সবাইকে মুখোমুখি থেকে অংশ নিতে হবে।

© অরুণমীলা

(ঊন্নয়ন যোগাযোগ প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের চেয়ে অনেকাংশে আলাদা। উন্নয়ন যোগাযোগের কাজ শুধুমাত্র তথ্য দেয়া নয় পাশাপাশি মানুষের মনস্তত্ত্ব আবেদনীয় অনুভূতির অনুরণন ঘটানো। যেমনঃ পথনাটক, কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জনসাধারণের কথা শোনা, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা প্রভৃতি একই সাথে সাধারণ মানুষকে তথ্য দিচ্ছে, মানুষকে তথ্য দিয়ে আবেগীয় অনুরনন ঘটাচ্ছে। আমরা যেকোনো কিছু সাধারণভাবে জানার চেয়ে সেটা যদি আবেগ দিয়ে অনুধাবন করি তাহলে বিষয়টিকে আত্মস্থ করতে পারি। উন্নয়ন যোগাযোগ আমাদেরকে প্রভাবিত করতে পারে, আমাদের আবেগীয় সত্ত্বাকে জাগিয়ে তুলতে পারে, পরিবর্তন আনতে পারে। উন্নয়ন যোগাযোগ আমাদেরকে ইন্দ্রিয় দিয়ে পারিপার্শ্বিকতাকে বুঝতে শেখায়, বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়গুলোতে পথ দেখায়।)




উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ এর বৈশিষ্ট্যঃ


C4d মূলত এমন একটি প্রক্রিয়া যা সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক আদর্শকে এবং সাধারণ মানুষকে নিয়ে কাজ করে। সমাজের বিভিন্ন অংশ, কমিউনিটি, ছোট-বড় সবার সমস্যা চিহ্নিত করে সেইসব সমস্যার সমাধানের চেষ্টা ও সে অনুযায়ী কাজ করে। দু’ধাপে c4d প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে যেকোনো বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা, তথ্য ও জ্ঞান দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ধাপে সাধারণ মানুষ যোগাযোগের হাতিয়ার ও কৌশল ব্যবহার করে তাদের যাপিত জীবনের উন্নয়নের জন্য সংগৃহিত ধারনা কাজে লাগায়। শুধুমাত্র একজন বা কয়েকজন যদি এই উন্নয়নের আওতায় পড়ে তাকে আমরা c4d বলি না। সমাজের প্রত্যেকটি মানুষকে এই প্রোগ্রামের আওতায় এনে তাদের জীবন যাপনের উন্নয়ন হলেই আমরা সে উন্নয়নকে c4d এর আওতাভুক্ত করে বলতে পারি যে উন্নয়ন এসেছে



© অরুণমীলা

ইউনিসেফ c4d এর কৌশল অবলম্বন করে শিশুদের ও কমিউনিটির মধ্যে এক ধরনের সংযোগ তৈরি করেছে। তারা শিশুদের বেঁচে থাকা, তাদের উন্নয়ন, সুরক্ষা ও বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে c4d প্রক্রিয়াকে আত্মস্থ করেছে। পোলিও থেকে রক্ষা বা পোলিও হলে করনীয়, মাতৃকালীন অবস্থা, কম বয়সী বিয়ে প্রভৃতি প্রোগ্রামে অভাবনীয় কাজ করেছে ইউনিসেফ।

C4d কে আমরা কাজের আওতায় না ফেলে মূলত কৌশল হিসেবে বিবেচনা করে কিছু বৈশিষ্ট্য নির্ধারন করেছি।

  • C4d is based on dialogue / c4d মূলত সংলাপ নির্ভর প্রক্রিয়া।
  • C4d supports social change / c4d সামাজিক পরিবর্তনকে সমর্থন করে।
  • C4d is sensitive to local culture / c4d প্রান্তিক সংস্কৃতির ব্যাপারে স্পর্শকাতর।

C4d মূলত সংলাপনির্ভর প্রক্রিয়া

উন্নয়নের ধারণা ছোট করে বোঝাতে সংলাপ খুব সম্ভবত সবচেয়ে অর্থবহ শব্দ। এই যোগাযোগ প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের মত একমূখী হয়না। নির্দিষ্ট কয়েকজন দর্শক ও অনির্দিষ্ট কৌশল ও বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তে সবাইকে দর্শক-শ্রোতা করে নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য ধরে এই যোগাযোগ প্রক্রিয়া চলে। বিপরীতে, c4d যোগাযোগ প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের সাথে তাল মিলিয়ে একই সাথে চলা হয়। অর্থা সাধারণ মানুষ এখানে কথা বলার সুযোগ পাবে আবার কোনো কমিউনিটি, সরকার, স্টেকহোল্ডাররাও কথা বলার সুযোগ পাবে। দুপক্ষের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান হবে, মিথষ্ক্রিয়া হবে। c4d এর লক্ষ্য থাকে নির্দিষ্ট সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের মানুষকে খুঁজে বের করে তাদের সমস্যা, প্রয়োজনকে চিহ্নিত করা ও তাদের অংশগ্রহণকে উসাহিত করা।

© অরুণমীলা

অভিজ্ঞ যোগাযোগ কর্মীদের মতে, সংলাপ প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের সাথে খুব সহজে যোগাযোগ করা যায়। তাদের আচার-আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা যায়। উদাহরণস্বরূপ, কেনিয়ায় কৃষকদের নতুন কৃষিকাজের প্রক্রিয়ায় সাফল্য ছিল ধারণাতীত। সেখানে সরকার ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রচারে কৃষিকাজের নতুনভাবে চর্চা শুরু হয়। কিন্তু কেনিয়ায় এই কৃষিকাজের ফলাফল ছিল প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। ২০১৩ সালের একটি সার্ভের ফলাফলে দেখা গেছে এই অপ্রত্যাশিত ফলাফলের কারণ তথ্যের অপ্রাচুর্যতা নয়। গ্রামের মানুষ তাদের নিজস্ব ভাষায় তথ্য পেয়েছে, লিফলেট-ম্যানুয়াল পেয়েছে, পথপ্রদর্শনা পেয়েছে। কিন্তু এই হতাশাব্যাঞ্জক ফলাফলের পেছনে কারণটা ভিন্ন ছিল। সাধারণ মানুষের সাথে এই পথপ্রদর্শকদের যোগাযোগ ছিল একমূখী। অর্থা কৃষকরা কোনো ফলাবর্তন দেয়ার সুযোগ পায়নি। তারা তাদের মত তথ্য দিয়ে গেছে। গ্রামের মাটি ও মানুষের কথা, কৃষকদের অভিজ্ঞতা, তাদের প্রয়োজন-অপ্রয়োজনের কথা কেউ শোনেনি। নতুন প্রক্রিয়ায় কৃষিকাজ করতে জিজ্ঞাসা, প্রয়োজন, সমস্যা কোনো কিছুই প্রতিষ্ঠানগুলো জানতে চায়নি। কৃষকদের মনেও ক্ষোভ ছিল যে, সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেহেতু তাদের কথা শুনছেন না, তাদেরও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কথা শোনার প্রয়োজন নেই।

সত্যি বলতে, সংলাপ – পারস্পারিক মিথস্ক্রিয়া ছাড়া তথ্য দেয়া অনেকটা তেলবিহীন গিয়ারবক্সের মত। সংলাপ তথ্যের মূল কথা। সাধারণ মানুষ নতুন তথ্য, নতুন চিন্তাভাবনার সাথে নিজেদেরকে মেশাতে চায়। কিন্তু নিজেরা যদি সে বিষয়ে মতামত দিতে না পারে কোনো প্রক্রিয়া বা কোনো নতুন তথ্য তারা আত্তীকরণ করতে পারেনা। সব বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতামত রয়েছে, প্রশ্ন করার প্রয়োজন রয়েছে। উন্নয়ন প্রক্রিয়ার কোন বিষয়ে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে তাদের মতামত প্রকাশের জায়গা করে দিতে হবে। c4d এর প্রাথমিক কাজই হল তথ্য আদান-প্রদানের জন্য জায়গা তৈরি করে দেওয়া যাতে সাধারণ মানুষ নিজেরাই নিজেদেরকে এই যোগাযোগ প্রক্রিয়ার এজেন্ট করে তুলতে পারে।


C4d সামাজিক পরিবর্তনকে সমর্থন করে

C4d প্রক্রিয়ায় কোনো যোগাযোগকর্মীর দৃশ্যমানতা বাড়িয়ে তুলতে পারে। কিন্তু এটা তার প্রাথমিক লক্ষ্য নয়। c4d সবসময় সামাজিক পরিবর্তন আনতে উন্নয়নকে প্রচার করে। যোগাযোগের হাতিয়ার (communication tools) যোগাযোগ শুরু করার একটি উপায় মাত্র, কিন্তু এখানেই যোগাযোগ শেষ হয়ে যায় না। এটি শুধুমাত্র একটি যোগাযোগীয় প্রক্রিয়া, কোনো নির্দিষ্ট ফলাফল (output) নয়। তবে যোগাযোগের এই প্রক্রিয়াটি সমাজের পরিবর্তন আনে। সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রচার চালায়। কোনো প্রোজেক্টের মালিকানার ধারণাকে শক্ত করে। উন্নয়ন সময়সাপেক্ষ। যেখানে উন্নয়ন সাধিত হয় সেটি শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলাফল নয়। প্রগাঢ় সামাজিক ও যোগাযোগীয় প্রক্রিয়ারও ফলাফল। যেমনঃ কোনো এলাকায় কলেরা রোধে শুধুমাত্র পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত পানির ব্যবস্থা করাই যথেষ্ট নয়। কলেরা রোধে সাধারণ মানুষের সচেতনতাও প্রয়োজন। যোগাযোগ কর্মীদেরকে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ তৈরি করতে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সংলাপ বাড়াতে হবে এবং সংলাপ প্রক্রিয়াটি কাজে লাগছে কিনা সে বিষয়টিও নিশ্চিত হতে হবে। সমাজে পরিবর্তন আনতে সামাজিক পরিবর্তনকে সাধারণ মানুষ সমর্থন করছে কিনা সে বিষয়টি মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরী।

© অরুণমীলা

C4d কোনো নির্দিষ্ট কৌশল নয়। এটি যোগাযোগ ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার সেতুবন্ধন। c4d কোনো প্রকল্পে সামাজিক এবং রাজনৈতিক সমতা রাখে। এজন্যই কারিগরি বিশেষজ্ঞ এবং যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে একটি নিখুঁত সহযোগ থাকতে হয়।


C4d প্রান্তিক সংস্কৃতির বিষয়ে স্পর্শকাতর

উঁচুতলার কোনো দালানে বসে c4d প্রক্রিয়ার চর্চা করা যায় না। এই উন্নয়ন অবশ্যই প্রান্তিক সূত্র ও সংস্থান (context and resources) এর উপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে। উন্নয়নের প্রভাব বাড়াতে অথবা নিশ্চিত করতে প্রান্তিক মানুষের ভাষা, সংস্কৃতি, আচার-ব্যবহার, রীতি-নীতির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। যেমনঃ পরিবারে নির্যাতনের কথা ধরা যাক। ঘরে ঘরে নির্যাতনের ব্যাপারে কী করতে হবে, কীভাবে শক্ত প্রভাব ফেলা যাবে সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে আগে বুঝতে হবে কোথায় কাজ করা হচ্ছে। বলিভিয়া, বাংলাদেশ বা বুরকিনি ফাসোতে আলাদা আলাদা সংস্কৃতি। তাদেরকে শারীরিক নির্যাতনের বিরোধিতা করতে আলাদা আলাদাভাবে বার্তা দিতে হবে। ‘কীভাবে’ প্রশ্নটি এখানে প্রয়োজনীয়। প্রতিটি দেশের সংস্কৃতি, কোনো তথ্য নেয়ার ধরণ, রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা আলাদা। আবার প্রতি দেশের মধ্যে আলাদা আলাদা শহরের আচার-ব্যবহার-রীতি-নীতিও আলাদা হয়। নারী-পুরুষ, শহর-গ্রাম, অজপাড়াগা-মফস্বল ভেদে মানুষের সংস্কৃতি আলাদা হতে পারে।

© অরুণমীলা

এসব ক্ষেত্রে কীভাবে আমরা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে পারি উন্নয়নের বার্তা নিয়ে। c4d এর কাজের মধ্যে যেকোনো এলাকার মানুষের সংস্কৃতি, ব্যবহার, আচার, রীতি-নীতি, সনাক্তকরণ পরিচয়, দেব-দেবতাকে কাজে লাগিয়ে এদের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা যেতে পারে। তাদেরকে বোঝানো যেতে পারে যে তাদের চর্চিত সংস্কৃতির বিরোধিতা করে নয়, সেসবকে কাজে লাগিয়েই, সেসবের প্রতি সম্মান রেখে, সম্মান মূল্যবোধ জিইয়ে রেখে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার চর্চা হচ্ছে। আমরা যদি সাধারণ মানুষের চর্চিত সংস্কৃতি ও নতুন সংস্কৃতির মধ্যে সাদৃশ্য সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারি তবে আমরা সেসব মানুষের মধ্যে উন্নয়নের প্রতি বিশ্বাস জাগিয়ে তুলতে পারবো। যেমনঃ পুতুলনাচ বাংলাদেশের কিছু এলাকায় ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। পুতুলনাচের মাধ্যমে আমরা সাধারণ মানুষকে এইডস বিষয়ে সচেতন করে তুলতে পারি।


উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ প্রয়োজন কেন?

© অরুণমীলা

C4d কেন এর একটি সহজ উত্তর হতে পারে যাদের জন্য c4d তাদের প্রভাবিত করা। জনগণের মাঝে সচেতনতা তৈরি করা। কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্যে ঐ ব্যক্তিদের প্রণোদিত করা।

সম্পূর্ণ বিষয়টি সচল রাখা এবং সাধারণ মানুষদের প্রোজেক্টটির নানাদিক ভালোভাবে জানাতে থাকা। আর এই প্রক্রিয়া এমন হবে যাতে মানুষজন বিনোদিত হতে পারে। এতটুকুতে বসে থাকলে c4d সম্পূর্ণ হবে না। ক্ষমতায়নের বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে হবে। সমস্ত বিষয়ের পরিচয় দিতে হবে যাতে কোনো বিষয় অজানা না থাকে। যেকোনো সমস্যা বা বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিতর্কের সুযোগ করে দিতে হবে যাতে সঠিক বিষয়টি বেরিয়ে আসে। এই কাজগুলোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঞ্চলে পরিবর্তন আনতে হবে। এই বিষয়টি যাতে প্রচার করা যায় এবং অন্যদের প্রভাবিত করা যায় সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।


উন্নয়নের জন্য যোগাযোগের চারটি প্রধান কাজঃ

  1. Facilitating access to information and knowledge / তথ্য ও জ্ঞানের প্রতি অধিগমনের সুবিধা প্রদান
  2. Promoting participation / অংশগ্রহণের প্রচার
  3. Giving a voice to exclude
  4. Influencing public policies / জনসাধারণের নীতি প্রভাবিত করা


Facilitating access to information and knowledge / তথ্য ও জ্ঞানের প্রতি অধিগমনের সুবিধা প্রদান

কোনো বিষয় সম্পর্কে যেসব মানুষের মধ্যে জ্ঞান বা তথ্যের কোনো যোগসূত্র নেই অথবা থাকলেও তার মাত্রা খুব কম সেক্ষেত্রে সেসব মানুষ সাধারণত সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেকে পিছিয়ে থাকে। যোগাযোগ পদ্ধতি ও মিডিয়ার সাথে মানুষের যোগসূত্র স্থাপনের মাধ্যমে c4d উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অন্যতম গুতুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা পালন করে। অনেকভাবেই পিছিয়ে পড়া মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেয়া যায়। এক্ষেত্রে কার্য সমাধায় সাঁজোয়া বিস্তৃত একটি পরিসর রয়েছে। যেমনঃ কমিউনিটি রেডিও, শিক্ষামূলক থিয়েটার পারফরমেন্স, জনপরিসর, সর্বজনীন ইভেন্টে অথবা ইন্টারনেট ভিত্তিক শিক্ষামূলক প্রচারণাগুলোতে খুব সহজেই জনসাধারণের কাছে বার্তা পৌঁছে দেয়া সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে যোগাযোগের এই প্রক্রিয়াটিকে অবশ্যই হতে হবে সর্বব্যাপী এবং অবারিত। আমরা যদি চাই যেকেউ পিছিয়ে না পড়ুক, তবে যোগাযোগ কর্মীদের শেষ পর্যন্ত কাজ করে যেতে হবে।

© অরুণমীলা

যেমনঃ সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল সঠিকভাবে একদিকে তথ্যের অভিগমন (access) নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে সামাজিক ও মানবীয় উন্নয়নের দিকে জোর দিয়ে কাজ করেছে। পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি মানুষের কাছে যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তির কোনো যোগসূত্র নেই। যোগাযোগের এই শূন্যস্থানটি পিছিয়ে পড়া মানুষের অবস্থানকে আরো খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যোগাযোগ কর্মীদের কাজই হলো এইসব প্রান্তিক মানুষদের প্রয়োজনীয় যোগাযোগ সরঞ্জাম দিয়ে এই বিরাট শূন্যস্থানটিকে পূরণ করা। যেমনঃ বেনিনে মেয়ে শিশুদের শিক্ষার জন্য পুতুল উসব, মালিতে মোবাইল স্কুলের সহায়তার জন্য সামাজিক আন্দোলন, নিকারাগুয়াতে বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের জন্য ‘ওয়াটার সার্কাস’ এই অধিগমনের ভালো উদাহরণ হতে পারে। c4d এর কাজই হলো তথ্য ও জ্ঞানের সমন্বয় ও প্রান্তিক মানুষ যাতে এই সমন্বয় দ্বারা উপকৃত হতে পারে তা নিশ্চিত করা। মানুষের অনেক পরিবর্তনই নির্ভর করে প্রয়োজনীয় তথ্য থাকা না থাকার উপরে। তবে এই তথ্য দেয়া যাতে কার্যকর হয় সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। অক্ষরজ্ঞানহীন কৃষককে এসএমএস এর মাধ্যমে সারের উঠতি দাম জানানো মোটেই যোগাযোগের কার্যকর কোনো উপায় নয়। c4d এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করবে।


Promoting Participation / অংশগ্রহণকে উসাহিত করা

মানুষের মৌলিক চাহিদাকে প্রভাবিত করতে পারবে এরকম কোনো বিষয়ে মতামত দেয়া প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। এটি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোরও একটি প্রয়োজনীয় দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে। যেসব প্রোজেক্টগুলোতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ রয়েছে সেইসব প্রোজেক্টগুলো সাধারণত অনেক বেশি স্থায়ী ও টেকসই হয়ে থাকে। c4d প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান একটি কাজ হলো সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করা। C4d এর দায়িত্ব নাগরিক এবং স্থানীয়, ধর্মীয় জাতীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগীয় সংলাপের জায়গা তৈরি করে দেয়। উন্নয়ন যোগাযোগ মানুষের পরিবর্তন চর্চা করতে উসাহিত করে। এজন্য অংশগ্রহণ জরুরী।

© অরুণমীলা

জনগণ যাতে যেকোনো তথ্য গ্রহণে উসাহিত হয় c4d সেই লক্ষ্যে কাজ করে। পাশাপাশি অংশগ্রহণকে উসাহিত করার জন্য বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষকে সাহিত করার জন্য নতুন নতুন প্রক্রিয়া c4d উপস্থাপন করে। যেমনঃ বিকেন্দ্রীকরণ প্রক্রিয়ায় ফান্ড ও প্রাতিষ্ঠানিক পুনঃর্গঠন ব্যবস্থাপনা। এক্ষেত্রে প্রকাশ্য শুনানী ও বিতর্ক, রেডিও ফোরাম ও অনলাইনে তথ্য অংশগ্রহণের প্লাটফর্ম হিসেবে ধরা যায়। পাবলিক শুনানীতে নেপালে বিনিয়োগ কোথায় করা হবে তা নির্ধারিত হয়েছিল। ভ্রাম্যমাণ থিয়েটার বুরকিনা ফামোতে সাধারণ নির্বাচনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছিল। কিউবাতে সাধারণ মানুষের পরামর্শ নিয়ে নগরায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ইউক্রেনে মাল্টিমিডিয়া ক্যাম্পেইন রাজনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছিল।

  • Meena – Education through entertainment
  • নানা-নাতী
  • স্বর্ণকিশোরী


Giving a voice to exclude/ মতামত দেয়ার ক্ষেত্র তৈরি করে

উন্নয়নশীল দেশগুলোর মিডিয়া প্রায়ই রাজনৈতিক অভিজাতদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে। যদিওবা পৃথিবীর জনসংখ্যার একটি বড় অংশ দরিদ্র মানুষ, যুবক-যুবতী এবং নারীদের নিয়ে কিন্তু যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে বা জাতীয় বিষয়ে এই কম সুবিধাপ্রাপ্ত সামাজিক গোষ্ঠীর মতামত। উদ্বেগ বা আকাঙ্ক্ষাকে বাদ দেয়া হয়। c4d এই গোষ্ঠীগুলোকে তাদের মতামত প্রকাশ করতে উসাহিত করে।

© অরুণমীলা

নিউজলেটার মুদ্রণ করা, নতুন যোগাযোগ চ্যানেল খোলা, নিজের মত প্রকাশে মিডিয়ার ব্যবহার করতে শেখায় c4d। এর মাধ্যমে দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক মানুষ ও শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়। c4d’র অন্যতম একটি উদ্দেশ্যই হলো ঈই পিছিয়ে পড়া মানুষদের একটি আওয়াজ তৈরিতে সাহায্য করা। কেউ যেন বাদ না পড়ে। সবাইকে যেকোনো বিষয়ে একত্রিত করা। তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে কেউ যাতে পিছিয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করা। যদিও বা কেউ পিছিয়ে পড়ে তাদেরকে মূলধারায় সংশ্লিষ্ট করা।


Influencing public policies / জনসাধারণের নীতি প্রভাবিত করা

© অরুণমীলা 

C4d কোনো পরিবেশগত, সামাজিক বা রাজনৈতিক বিষয় যদি উন্নয়নে বাঁধা তৈরি করে যে বিষয়গুলোকে তুলে ধরে। কিন্তু শুধু সমস্যাগুলোকে তুলে ধরাই c4d এর মূল কাজ নয়। এর চূড়ান্ত লক্ষ্য জনসাধারণের নীতিমালা যেগুলো পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা প্রয়োজন সেগুলোকে প্রভাবিত করা। মানুষের দাবীকে জোরদার করা। নীতিনির্ধারকদের প্রভাবিত করা। যেমনঃ যৌতুক বিরোধী আইন পাসে প্রভাবন, নদীবর্ধন আইন পাশে কথা বলা ইত্যাদি।

এক্ষেত্রে জর্জিয়ার SDC’র উদাহরণটি প্রাসঙ্গিক। সেখানে ভেষজ চাষের ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি তথ্যচিত্র এমন এক বিতর্কের সূচনা করেছিল যার ফলাফলে সরকারকে বেশকিছু সংশোধনমূলক ও সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল।





(লিখেছেন - অরুণমীলা 

এটি অ্যাকাডেমিক কাজের অংশ হিসেবে ক্লাস লেকচার ও ম্যানুয়াল অনুসারে লিখা হয়েছে।)


আরও পড়ুন - 

যোগাযোগের সরঞ্জাম/হাতিয়ারসমূহ 

উন্নয়নের জন্য যোগাযোগের কৌশল (Approaches of C4D)

 

   


No comments:

Post a Comment

Featured Post

ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদনের প্রয়োজনীয়তা

- সমাজে প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণমাধ্যমের কাজ হলো সমাজের অপরাপর শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, বিশেষত রাষ্ট্র ও সরকারের কাজের ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা এবং জন...