Thursday, May 14, 2020

পার্লামেন্ট সম্পর্কিত কয়েকটি 'বিল'

Assent to Bill: সাধারণত Assent বলতে বুঝায় কোনো চুক্তি, দলিল বা কাজে সম্মতি প্রদান। বিলে সম্মতি বলতে বিল চূড়ান্তভাবে গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপ্রধানের সম্মতি বুঝায়। রাষ্ট্রপ্রধানের সম্মতির পর বিল গৃহীত হয় এবং আইন হিসেবে কার্যকর হয়।


President’s Assent to Bill: সংসদ কর্তৃক গৃহীত বিলে সম্মতির জন্য তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতির সম্মতি নিয়ে বিল আইনে পরিণত হয়। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরিত হলে তিনি ১৫ দিনের মধ্যে তাতে সম্মতি দেন অথবা কোনো সংশোধনী বিবেচনার জন্য অনুরোধ করে সংসদে একটি বার্তাসহ তা ফেরত পাঠান। রাষ্ট্রপতি ফেরত না পাঠালে ১৫ দিন মেয়াদের পর তিনি তাতে সম্মতি দিয়েছেন বলে ধরে নেয়া হয়।


Bill: বিল আইনে পরিণত করার জন্য উত্থাপিত প্রস্তাব, আইনের খসড়া। বিল পার্লামেন্ট কর্তৃক পাশ হওয়ার পর আইনে পরিণত হয়। প্রত্যেক বিলে একটি শিরোনাম থাকে। বিল কিছু দফা ও উপদফায় বিভক্ত হয়।
বিষয়, উত্থাপনের উপায় ও পাসের নিয়ম অনুযায়ী বিল শ্রেণীভুক্ত হয়।
কোন বিষয়ে বিল প্রণীত হয়েছে তা বিবেচনায় রেখে পাবলিক বিল, প্রাইভেট বিল বা মিশ্র বিল এইরকম শ্রেণীভুক্ত বিল হয়।
যেসব বিল পাস হতে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠতাই যথেষ্ট সেসব বিলকে সাধারণ বিল এবং যেসব বিল পাস হতে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতি দরকার ও প্রয়োজনে গণভোট আয়োজনের প্রয়োজন হয় সেসব বিলকে বিশেষ বিল বলে।
বিল পাস হওয়ার নিয়ম সবদেশে একরকম নয়। তবে সাধারণ কিছু নিয়ম সব সংসদেই পালিত হয়। সংসদে উত্থাপন, বিলের উপর আলোচনা, প্রয়োজনে কমিটিতে পাঠানো, পার্লামেন্ট কর্তৃক অনুমোদিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপ্রধানের স্বীকৃতি ইত্যাদি নিয়ম প্রায় সবদেশেই অনুসৃত হয়।


Publication of Bill: পার্লামেন্টের সরকারি ও বেসরকারি সদস্যদের বিল উত্থাপনের জন্য আলাদা আলাদা বিধান রয়েছে। বিধান মতে, বিল উত্থাপিত হওয়ার পর সংসদ সচিব বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ বিবৃতি এবং প্রাসঙ্গিক হলে আর্থিক স্মারকলিপিসহ বিলটি গেজেটে প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। এ ধরনের প্রকাশনাকে বিলের প্রকাশন বলে। সচিবকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিল প্রকাশনের ব্যবস্থা করতে হয়।


Private Bill: ব্যক্তি, ব্যক্তিগোষ্ঠী স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, কোম্পানী বা কর্পোরেশন এসবের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিল। অন্যান্য বিল যেখানে সংসদ সদস্যের দ্বারা প্রস্তাবিত ও উত্থাপিত হয় সেখানে ব্যক্তিগত বিল আগ্রহী কোনো পক্ষের মাধ্যমে পিটিশন থেকে উত্থাপিত হয়। এ ধরনের বিলকে Personal Bill ও বলে। ব্যক্তিগত বিল সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়, জমির মালিকানা, নাগরিকত্ব, বিবাহ বিচ্ছেদ ইত্যাদি বিষয়ে হয়ে থাকে। ব্যক্তিগত বিল সংক্রান্ত বিষয়ে পার্লামেন্টারি এজেন্ট ও আইনবিদেরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাহায্য ও পরামর্শ দেন।
ব্যক্তিগত বিল যেহেতু উদ্যোগী পক্ষ ছাড়া অন্য পক্ষকেও ক্ষতিগ্রস্ত বা প্রভাবিত করবে তাই এ ধরনের বিল উত্থাপিত হওয়ার পর বিজ্ঞাপন ও গেজেট নোটিফিকেশন  করতে হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও পক্ষগুলোকে ব্যক্তিগত নোটিশও দেওয়া হয়। ব্যক্তিগত বিল পাশ হলে তা ব্যক্তিগত আইনে পরিণত হয়। এ ধরনের বিল সংশ্লিষ্ট পুরো আইন পরিবর্তন না করে শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা পক্ষকে আইনের ব্যতিক্রমী সুবিধা প্রদান করে। নির্বাহী প্রশাসনের ক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রভিশনার অর্ডার প্রদান, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ফলে এ ধরনের বিল আইনসভায় উত্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনেক কমে গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেসব প্রাইভেট বিল আসে সেসবের মধ্যে ইমিগ্রেশন বিলই অনেক বেশি। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ২০ শতকে অনেক বিল উত্থাপিত হয়। একমাত্র ১৮৪৬ সালেই সর্বমোট ১১৩০ টি বিল আইনে পরিণত হয়।


Private Member’s Bill: মন্ত্রী বাদে অন্য সংসদ সদস্যরা যেসব বিল উত্থাপন করে। সরকারি বা বিরোধী যে দলের সদস্যই উত্থাপন করুক না কেন তা বেসরকারি সদস্যের বিল বলে চিহ্নিত হয়। বেসরকারি সদস্যের বিল উত্থাপন অপেক্ষাকৃত কঠিন ও পাস হওয়া জটিলতর হলেও সদস্যদের এই অধিকার প্রদান পার্লামেন্টারি ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। 
বেসরকারি সদস্যদের বিল বেসরকারি সদস্যদের জন্য নির্ধারিত দিনে উত্থাপন করতে হয়। কোনো বেসরকারি সদস্য সরকারি অর্থ সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করতে চাইলে তাকে আর্থিক স্মারকলিপি বিলের সঙ্গে যুক্ত করতে হয়। বেসরকারি সদস্যকে বিল উত্থাপনের জন্য অনুমতি চেয়ে ১৫ দিনের লিখিত নোটিশ দিতে হয়। অনুমতি প্রস্তাবের বিরোধিতা হলে স্পীকার উত্থাপনকারী সদস্যকে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ দিতে পারেন। বেসরকারি বিল অন্যান্য বিলের মতই পাস হয়।


Hybrid Bill: কোনো বিলে বিশেষ ও সাধারণ স্বার্থ সম্পর্কিত থাকলে একে মিশ্র বা দ্বিজাতীয় বিল বলে। যেমনঃ জনস্বার্থে একটি হাসপাতাল বা পোস্ট অফিস স্থাপন করার জন্য জমি অধিগ্রহণ করার বিল আনা হল। এই বিল যেমন সাধারণ স্বার্থ সম্পর্কিত তেমনি জমি অধিগ্রহণের ফলে বিশেষ এক বা একাধিক ব্যক্তির স্বার্থের সঙ্গে জড়িয়ে গেল। কারণ যার বা যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হবে তাদের ব্যক্তিস্বার্থ এখানে আঘাত পাবে।
এই ধরনের বিল পরীক্ষার জন্য বাছাই কমিটিতে পাঠানো হয়। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি এ ধরনের বিলের বিরুদ্ধে সংসদে পিটিশন করতে পারেন। পিটিশন সংসদের পিটিশন কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির রিপোর্ট সংসদে আলোচিত হয়। মিশ্র বিলে যদিও প্রাইভেট ও পাবলিক উভয় ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকে তবুও সংসদে আলোচনার সময় এধরনের বিলকে পাবলিক বিল বলে গন্য করা হয়।


Money Bill: একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল। অর্থবিল সংসদে উপস্থাপনের একটি বিশেষ নিয়ম রয়েছে। সব দেশেই গুরুত্বসহকারে অর্থবিলের সংজ্ঞা নির্ধারিত হয়েছে। ইংল্যান্ডের ১৯১১ সালের পার্লামেন্ট অ্যাক্টে অর্থবিলের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। 

বাংলাদেশের সংবিধানের ৮১ অনুচ্ছেদে অর্থবিল বলতে কয়েকটি বিষয়ের সম্পর্কিত বিল বোঝানো হয়েছে –
(ক) কোনো কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ ও রহিতকরণ
(খ) সরকার কর্তৃক ঋণগ্রহণ বা গ্যারান্টি দান, কিংবা সরকারের আর্থিক দায়িত্ব সম্পর্কে আইন সংশোধন
(গ) সংযুক্ত তহবিলের রক্ষণাবেক্ষণ, অনুরূপ তহবিলে অর্থ প্রদান বা অনুরূপ তহবিল থেকে অর্থদান
(ঘ) সংযুক্ত তহবিলের উপর দায় আরোপ কিংবা দায় রদবদল বা বিলোপ
(ঙ) সরকারি তহবিল বা প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাব বাবদ অর্থ প্রাপ্তি, কিংবা অনুরূপ অর্থ রক্ষণাবেক্ষণ বা দান, কিংবা সরকারের হিসাব নিরীক্ষা
(চ) উপরের উপদফাসমূহে নির্ধারিত যেকোনো বিষয়ে অধীনে কোনো আনুষঙ্গিক বিষয়।

সরকারি বিলের সঙ্গে জড়িত কোনো অর্থবিল রাষ্ট্রপতির সুপারিশ ছাড়া সংসদে উত্থাপন করা যায় না। তবে কোনো কর হ্রাস বা বিলোপ সম্বলিত সংশোধনী উত্থাপন করতে এই সুপারিশের প্রয়োজন হয় না। রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য কোনো অর্থবিল তার কাছে পেশ করার সময় স্পিকারের সার্টিফিকেট দিতে হয় যে ‘এটি একটি অর্থবিল’।


First Reading: সংসদে উত্থাপিত বিলের প্রথম পাঠ। কোনো বিল পাস হওয়ার আগে কতগুলো পর্যায় অতিক্রম করে। বিল উত্থাপন ও প্রথম পাঠ হলো বিল পাসের প্রথম পর্যায়। বিল সংসদে উত্থাপনযোগ্য হলে ভারপ্রাপ্ত সদস্য (Member in charge) আনুষ্ঠানিকভাবে তা উত্থাপন করেন এবং বিলটির শিরোনাম পড়ে শোনান। শিরোনাম পাঠ ও আনুষ্ঠানিক উত্থাপনই প্রথম পাঠ। 
এই পর্যায়ে বিলের উপর কোনো আলোচনা বাঁ বিতর্ক হয়না। প্রথম পাঠের পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তা ছাপার নির্দেশ দেওয়া হয়। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে প্রথম পাঠের পর বিল গেজেটে প্রকাশিত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিলের প্রথম পাঠের পর তা Congressional Record এ ছাপা হয়।


Second Reading: পার্লামেন্টে উত্থাপিত বিলের দ্বিতীয় পাঠ। কোনো বিল আইনে পরিণত হওয়ার যে প্রক্রিয়া তাতে দ্বিতীয় পাঠ একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। প্রথম পাঠ শেষ হওয়ার পর ধার্যকৃত দিনে ভারপ্রাপ্ত সদস্য নিচের যেকোনো একটি প্রস্তাব করেন – 
(ক) বিলটি অবিলম্বে সংসদে বিবেচিত হোক
(খ) বিলটিকে কোনো স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করা হোক
(গ) বিলটিকে কোনো বাছাই কমিটিতে প্রেরণ করা হোক
(ঘ) বিলটির উপর জনমত যাচাইয়ের জন্য তা প্রচার করা হোক।

সাধারণত বিলটি সংসদে বিবেচিত হোক – এই প্রস্তাবই করা হয়। যেহেতু সংসদে অধিকাংশ বিল সরকারি দল উত্থাপন করে এবং সংসদে সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য থাকেন তাই সংসদে বিবেচনার প্রস্তাব গৃহিতও হয়। তবে বিরোধী দলের সদস্যরা ভারপ্রাপ্ত সদস্যের প্রস্তাবের সংশোধনী উত্থাপন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভোটের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়।
ভারপ্রাপ্ত সদস্য এই পর্যায়ে বিল কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দিলে বিলটির উদ্দেশ্য, পটভূমি ও নীতিগত দিক ব্যাখ্যা করেন। বিরোধী দল বিলটি প্রত্যাখ্যান করতে চাইতে পারেন। সেইক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিতীয় পাঠ পর্যায়ে বিলের উপর দুই ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
(১) বিলটি আলোচনার জন্য গৃহীত হতে পারে। তাহলে ধার্যকৃত দিনে বিলের উপর বিস্তারিত দফাওয়ারি আলোচিত হয়।
(২) বিলটি কমিটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে বিলটি কমিটি পর্যায়, কমিটির রিপোর্ট পর্যায় ও বিলের উপর আলোচনা পর্যায় অতিক্রম করে।
এভাবে বিলের দ্বিতীয় পাঠ পর্যায় শেষ হয়।


Third Reading: পার্লামেন্টে উপস্থাপিত বিলের তৃতীয় পাঠ। তৃতীয় পাঠ বিলের পাসের প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়। দ্বিতীয় পাঠ শেষ হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত সদস্য বিলটি সামগ্রিকভাবে গ্রহণ করার প্রস্তাব করেন। এটিই তৃতীয় পাঠ। এই পর্যায়ে বিলের দফা-উপদফার কোনো বিতর্ক বাঁ আলোচনা হয়না। এই স্তরে কেবল শব্দগত ও দাপ্তরিক সংশোধনীর জন্য মৌখিক সংশোধনী গ্রহণ করা হয়। এই পর্যায়ে বিল সামগ্রিকভাবে গৃহীত বাঁ বাতিল হয়। গৃহীত বিল প্রমানীকরন করে স্পিকার রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠান। তবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভায় নিম্নকক্ষ থেকে তৃতীয় পাঠ শেষ করার পর উচ্চ কক্ষে যায়। ব্রিটিশ কমন্সসভায় তৃতীয় পাঠ শেষ হলে বিল লর্ডসসভায় যায়।


Authorization of Bill: স্পিকার কর্তৃক বিলের প্রমানীকরন। বিল সংসদে গৃহীত হওয়ার পর স্পিকার তাতে প্রমানীকরন করেন। এর অর্থ হলো স্পিকার বিলের তিনটি প্রতিলিপিতে স্বাক্ষর করেন। এবং সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠান। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ফেরত পাঠানো বিল নিয়ম অনুযায়ী সংসদে গৃহীত হলে স্পিকার অনুরূপভাবে আবার তাতে প্রমানীকরন করেন এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠান।


Introduction of Bill: আইনসভায় বিল উত্থাপন। বিল আইনে পরিণত হওয়ার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রথম পর্যায় হলো বিল উত্থাপন। বিল উত্থাপনে আইনসভাগুলোর নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। দুই কক্ষবিশিষ্ট আইনসভায় উভয় কক্ষেই বিল উত্থাপন করা যায়। তবে সাধারণত নিম্নকক্ষেই অধিকাংশ বিল উত্থাপিত হয়। বিল কিভাবে উত্থাপিত হবে সেটি বিলের ধরনের উপর নির্ভর করে।
আবার কে উত্থাপন করবেন তার উপরেও বিল উত্থাপন প্রক্রিয়া নির্ভর করে।

ধরনের উপর বিল – 
o সাধারণ বিল
o অর্থ বিল

উত্থাপন দাতার উপর নির্ভরশীল বিল – 
o সরকারি বিল
o বেসরকারি বিল
o হাইব্রিড বিল
o বেসরকারি সদস্যের বিল

কোনো বেসরকারি সদস্য বিল উত্থাপন করতে চাইলে তাকে সংসদ সচিবের কাছে ১৫ দিন আগে নোটিশ প্রদান করতে হয়। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর সংসদের কার্যসূচী অনুযায়ী যিনি বিল উত্থাপন করতে আগ্রহী তিনি সংসদের অনুমতি চান। সাধারণ বিলের ক্ষেত্রে উপস্থিত সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন প্রয়োজন। কেউ বিরোধিতা করলে স্পিকার বিষয়টি ভোটে দেন। সংখ্যাগরিষ্ঠের মত উত্থাপনের পক্ষে গেলে সংসদ অনুমতি দিয়েছে বলে ধরা হয়। তখন ভারপ্রাপ্ত সদস্য বিলের শিরোনাম পাঠের মাধ্যমে ও বিল উত্থাপনের মাধ্যমে প্রথম পাঠ সমাপ্ত করেন। কোনো মন্ত্রী বিল উত্থাপনের অনুমতি চাইলে এবং বিলটি সংবিধান অনুযায়ী পূর্বেই রাষ্ট্রপতির সুপারিশ দরকার হলে নোটিশের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সুপারিশ পাওয়া গেছে এই মর্মে সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়। তারপর সরকারি কাজের জন্য নির্ধারিত দিনে কার্যসূচী অনুযায়ী স্পিকার সংসদের অনুমতি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত সদস্যকে বিলটি উত্থাপন করতে দেন।


Publication of Bill: পার্লামেন্টে সরকারি ও বেসরকারি সদস্যের বিল উত্থাপনের আলাদা আলাদা বিধান রয়েছে। বিধান মতে বিল উত্থাপিত হওয়ার পর সংসদ সদস্য বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসহ বিবৃতি ও প্রাসঙ্গিক হলে আর্থিক স্মারকলিপি প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। এ ধরনের প্রকাশনাকে বিলের প্রকাশনা বলে। সচিবকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিল প্রকাশের ব্যবস্থা করতে হয়।




(লিখেছেন - অরুণমীলা)

No comments:

Post a Comment

Featured Post

ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদনের প্রয়োজনীয়তা

- সমাজে প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণমাধ্যমের কাজ হলো সমাজের অপরাপর শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, বিশেষত রাষ্ট্র ও সরকারের কাজের ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা এবং জন...